Star Link কি
Star Link হচ্ছে Space exploration, Aerospace manufacturing প্রতিষ্ঠান SpaceX এর একটি ডিভিশন। পৃথিবীতে সর্বত্র নির্ভরযোগ্য Fastest & Low latency ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে SpaceX ও Star Link এর প্রতিষ্ঠতা Elon mask ২০১৫ সালে Star Link প্রজেক্টের কথা প্রকাশ করেন। ২০২০ সালের অক্টোবরে বেটা টেস্টিং এর মাধ্যমে Star Link সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট সেবা প্রদান শুরু করেছে।
Star Link এর কাজ
Star Link মুলত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চল গুলোতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পৌছে দিবে। SpaceX, প্রায় ১২ হাজার স্যাটেলাইট মহাকাশে প্রেরণ করবে যার মাধ্যমে Star Link ইন্টারনেট সেবা প্রদান করবে।
Star Link এর বিশেষত্ব
স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে দুর্গম এলাকা গুলোতে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের ধারনা নতুন নয়, Viasat, iridium, Hughesnet এর মত প্রতিষ্ঠান গুলো বেশ আগে থেকেই স্যাটেলাইট ভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে আসছিল। কিন্তু সেবার মুল্য অনেক বেশি হওয়ায় তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলোতে ব্রডব্যান্ট ইউজার সংখ্যা কম হওয়ায় ব্রডব্যান্ড কিংবা মোবাইল টাওয়ার ভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা প্রদান ব্যায়বহুল। বিশ্বব্যাপি Viasat, iridium, Hughesnet এর মত প্রতিষ্ঠান গুলো যে স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে আসছিল তা মুলত Geostationary satellite, এই ধরনের স্যাটেলাইট গুলো পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার উপর দিয়ে পৃথিবীর একটি নিদৃষ্ট পয়েন্টকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে। পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে দুরত্ব বেশি হওয়ায় Latency 240ms হওয়ার কথা থাকলেও Latency এর পরিমান 400ms-500 ms পর্যন্ত হয়ে থাকে যা বর্তমান ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের Latency এর প্রায় ১২ গুন, ফলে ইন্টারনেট ইউজাররা পর্যাপ্ত Download ও Upload speed থেকে বঞ্চিত হন।
Elon mask এর প্রতিষ্ঠান Star Link ঠিক এই জায়গাটিতেই কাজ করছে। Star Link মুলত পৃথিবীর Low orbit এ অর্থাৎ পৃথিবী পৃষ্ঠ হতে ৫৫০ কিমি উপরে ১২ হাজার স্যাটেলাইট প্রেরন করবে। অর্থাৎ Geostationary Satellite গুলোর থেকে SpaceX এর মাধ্যমে পাঠানো Star Link এর স্যাটেলাইট গুলো পৃথিবীর ৬০ গুন কাছাকাছি অবস্থান করবে। পৃথিবী থেকে কাছাকাছি অবস্থান করায় ডেটা ট্রান্সমিশন এর সময় কমিয়ে আনা সম্ভব হবে কয়েকগুন যা সরাসরি ইন্টারনেটের গতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
SpaceX ২টি ধাপে, পৃথিবীর ৩টি কক্ষপথে স্যাটেলাইট গুলো প্রেরন করবে। ১ ধাপে পৃথিবীর থেকে ৫৫০ কিমি দুরত্বে ১৪৪০টি ও ১১১০ কিমি দুরত্বে ২৮২৫টি এবং ২য় ধাপে পৃথিবী পৃষ্ঠ হতে ৩৪০ কিমি দুরত্বে ৭৫০০ টি স্যাটেলাইট প্রেরন করবে SpaceX. স্যাটেলাইট গুলো লেজার টেকনোলজির মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করবে। যার ফলে ব্যাবহারকারীরা দ্রুততম ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সুবিধা পাবে।
Star Link এর কার্যপ্রণালী
ব্যাবহারকারীদের কাছে একটি গোলাকার এন্টেনা থাকবে যাকে টার্মিনাল বলে যা সয়ংক্রিয় ভাবে স্যাটেলাইট গুলোর টার্মিনাল গুলোর সাথে কমিউনিকেট করবে, টার্মিনাল গুলো সাধারণ বাসা-বাড়ির ছাদে লাগানো থাকবে, টার্মিনাল গুলো থেকে একটি ক্যাবল ঘরে রাউটারে প্রবেশ করবে, এই রাউটার এর মাধ্যমে ব্যাবহারকারী ইন্টারনেটর ব্যাবহার করতে পারবে।
বাংলাদেশে Star Link
বর্তমানে Star Link বেশ কিছু দেশে ইন্টারনেট সেবা চালু করেছে। ইতিমধ্যে Star Link সেবা প্রি-অর্ডার করা যাচ্ছে। বাংলাদেশেও Star Link ইন্টারনেট সেবা খুব সম্ভবত ২০২৩ সালের মধ্যে চালু হতে যাচ্ছে।
একনজরে দেখে আসুন যেসব দেশে ইতিমধ্যে Star Link তাদের ইন্টারনেট সেবা চালু করছে ও করবে বলে প্রকাশ করেছে।

.jpeg)
