একটি তারবিহীন যোগাযোগ প্রযুক্তির নাম হলো, NFC এর পূর্ণরুপ হলো : Near Field Communications, সর্বপ্রথম ২০০৪ সালে, Sony, Nokia, Phillips এর প্রতিষ্ঠিত "NFC Forum " এটি তৈরী করে।
এনএফসি (NFC) রেডিও সিগন্যাল ব্যবহার করে খুব কাছাকাছি দূরত্বের (৪ সেন্টিমিটার থেকে সর্বোচ্চ ১০ সেন্টিমিটার) দুইটি ডিভাইস বা বস্তু পরস্পর নিজেদের মধ্যে তারবিহীন (ওয়্যারলেস) ডেটা যোগাযোগ করার এক সেট প্রটোকল),এই প্রোটকল ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৪২৪ কিলোবিট/সেকেন্ড গতিতে ডেটা বিনিময় করা যায়। এটি আরএফআইডি (RFID--Radio Frequency Dentification) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৩.৫৬ মেগাহার্জ ব্যান্ডে ডেটা যোগাযোগ করে।
এনএফসি টেকনোলজিসমৃদ্ধ ডিভাইস বলতে স্মার্টফোন, টার্মিনাল, ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড, টিকেট ইত্যাদিকে বুঝায় । ইদানিং এই প্রটোকল ব্যবহার করে যোগাযোগ করার বিষয়টি জনপ্রিয় হচ্ছে।
এনএফসি প্রযুক্তি সমৃদ্ধ দুটি ডিভাইস বা বস্তু পরস্পর এই প্রটোকল ব্যবহার করে যোগাযোগ করার জন্য একটিতে অবশ্যই এনএফসি রিডার/রাইটার (NFC reader/writer) ও অপরটিতে এনএফসি ট্যাগ (NFC tag) থাকতে হবে। এনএফসি রিডার/রাইটার (NFC reader / writer) একটি সক্রিয় বা এ্যাকটিভ (Active) ডিভাইস যা এনএফসি ট্যাগের সাথে যোগাযোগ করার জন্য রেডিও সিগন্যাল তৈরি করে।
অন্যদিকে এনএফসি ট্যাগ (NFC tag) একটি নিষ্ক্রিয় বা প্যাসিভ (Passive) ডিভাইস যা নিকটস্থ সক্রিয় ডিভাইসের ম্যাগনেটিক ফিল্ড থেকে শক্তি পায়। এটি একটি পাতলা ডিভাইস যাতে একটি চিপ, মেমরি ও অ্যান্টেনা থাকে।
একটি NFC Chip-এ স্বল্প পরিমান প্রয়োজনীয় ডেটা সংরক্ষণ করতে পারে। সফল যোগাযোগের জন্য এনএফসি সমৃদ্ধ ডিভাইস বা বস্তুদ্বয় ৪ সেন্টিমিটার দূরত্বের মধ্যে স্থাপন করা হয় অথবা একে অপরকে স্পর্শ করে।
যেসকল ডিভাইস এনএফসি টেকনোলজি ব্যবহার করে সেগুলো সক্রিয় বা এ্যাকটিভ (Active) এবং নিষ্ক্রিয় বা প্যাসিভ (Passive) হতে পারে |
যেসকল ডিভাইস এনএফসি টেকনোলজি ব্যবহার করে সেগুলো সক্রিয় বা এ্যাকটিভ (Active) এবং নিষ্ক্রিয় বা প্যাসিভ (Passive) হতে পারে |
সক্রিয় বা এ্যাকটিভ (Active) ডিভাইস
সক্রিয় বা এ্যাকটিভ (Active) ডিভাইস তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে, অন্য ডিভাইসের তথ্য পড়তে পারে এবং প্রয়োজনে তথ্য ট্রান্সমিট বা প্রেরণ এবং তথ্য বিনিময়ও করতে পারে। তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত কল্পে এনএফসি সিকিউর চ্যানেল স্থাপন করে ডেটা কমিউনিকেশন করে এবং ডেটা এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
সক্রিয় NFC ডিভাইস গুলো হলো, মোবাইল ফোন।
সক্রিয় NFC ডিভাইস গুলো হলো, মোবাইল ফোন।
নিষ্ক্রিয় বা প্যাসিভ (Passive) ডিভাইস
নিষ্ক্রিয় বা প্যাসিভ (Passive) ডিভাইসে তথ্য সংরক্ষণ করা থাকে যা অন্য কোন ডিভাইস পড়তে পারে তবে ঐ ডিভাইস নিজে তার মধ্যে সংরক্ষিত তথ্য পড়তে পারে না। নিষ্ক্রিয় ডিভাইস গুলোর একটি সুবিধা হলো এটি কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই চলতে পারে। এটি সক্রিয় ডিবাইসের দ্বারা তৈরী ম্যাগনেটিক ফিল্ড থেকে শক্তি পায়। ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, টোল প্লাজায় টোল পরিশোধের কার্ড ও হেল্থ কার্ডে এধরণের চিপ ব্যাবহার করা হয়।
যোগাযোগ মোড
NFC ডিভাইস গুলো বিভিন্ন মোডে কাজ করতে পারে। মোড গুলো হলো:
১। পিয়ার-টু-পিয়ার মোড (Peer-to-Peer mode )
পিয়ার-টু-পিয়ার মোডে উভয় এনএফসি ডিভাইস সক্রিয় এবং প্যাসিভ ভূমিকার মধ্যে সুইচ করে দ্বিপক্ষীয়ভাবে তথ্য বিনিময় করে। যেমন: আপনি আপনার বন্ধুর ফোন থেকে কোনো ফাইল নিতে চান, এক্ষেত্রে আপনার NfC সমৃদ্ধ ফোনটি আপনার বন্ধুর NFC সমৃদ্ধ ফোনের সাথে স্পর্শ করা মাত্রই ফাইলটি আপনার ফোনে ট্রান্সফার হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সেন্ডার বা আপনার বন্ধুর ফোনটি passive বা নিষ্ক্রিয় device আর আপনার ফোনটি Active বা সক্রিয় device হিসাবে কাজ করে । এই মোডটি অন্য দুটি মোডে তুলায় একটু ধীরগতি সম্পন্ন।
২। রিডার /রাইটার মোড(Reader/Writer mode)
এটি একটি active device ও একটি Passive device এর মধ্যে এক মুখী তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়া। NFC Active device একটি চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে Passive NFC device কে শক্তি দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদকারী হিসাবে কাজ করে। Passive device পাঠকের কাছ থেকে চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে তার সঞ্চিত তথ্যের সাথে সাড়া দেয়। সহজ ভাবে বলতে গেলে এটা অনেকটা QR কোনো scan করার মত। তবে এনএফসি এর বেলায় একটি ট্যাগ ব্যাবহার করা হয়, ট্যাগের ৪ থেকে ১০ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি বা স্পর্শ করানোর সাথে সাথেই ট্যাগে বিদ্যমান তথ্য আপনার ফোনের স্ক্রিনে দেখাবে। ধরুন আপনি কোনো কাপড়ের দোকানে গিয়েছেন, প্রত্যেকটি কাপড়ের গায়ে একটি করে ট্যাগ বসানো থাকবে, ট্যাগের কাছে ফোনটি নিলেই কাপড়ের যাতীয় সকল তথ্য আপনার ফোনের স্ক্রীনে দেখাবে।
৩। কার্ড এমুলেশন মোড।(Card Emulation mode.)
এক-ট্যাপে লেনদেন করতে কার্ড এমুলেশন মোড কনট্যাক্টলেস স্মার্ট কার্ড এবং এনএফসি-সক্ষম ক্রেডিট কার্ডের মতো অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে ব্যবহৃত হয়। যেমন ধরুন আপনি কোনো দোকানে বসে কফি পান করলেন, এরপর নিদৃষ্টি একটি ডিভাইসে আপনার NFC সমৃদ্ধ ক্রেডিট কার্ডটি স্পর্শ করাতেই, বিলটি পেইমেন্ট করা হয়ে যাবে।
- ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডে
- টোল প্লাজায় টোল পরিশোধের কার্ডে
- স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করতে হেলথ কার্ডে
- বাস/ট্রেনের ভাড়া পরিশোধের কার্ডে ইত্যাদি।
NFC Device এর সুবিধা
- এনএফসি সমৃদ্ধ কোন ডিভাইস চুরি হলেও যাতে অন্য কেহ ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য এতে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া তথ্য আদান প্রদানের সময় তথ্য এনক্রিপ্টেড অবস্থায় থাকে তাই মাঝখানের কেউ তথ্য দেখতে পারেনা।
- NFC ফিচার সমৃদ্ধ ফোন গুলোকে এমনকি টিকিট হিসাবে ব্যাবহার করা যায়।
- ডিজিটাল ক্যামেরা (NFC সমৃদ্ধ) তে স্পর্শ করা সাত্র ছবি আদান প্রদান বা প্রিন্ট করা যায়।
- অতি অল্প সময়ে শুধুমাত্র স্পর্শ করিয়েই যেকোনো পণ্যের মুল্য পরিশোধ করা যায়, যা সময় বাচায়।